সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির শহরে জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের দাবি অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জামালগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে বসতভিটা, আমন ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘ইসলামী’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি যুবদল সভাপতির জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতিমূলক সভা জেলা পুলিশের অনলাইনভিত্তিক কুইজে প্রথম জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে আছিয়ার শেষ আশ্রয়, অনিশ্চয়তায় জীবন ছাতক পৌরসভার টেকসই উন্নয়নে আইইউজিআইপি’র সভা জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশুদের বার্ষিক সমাবেশ, ২ হাজার ৭৫০ শিশুর মাঝে উপহার বিতরণ সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে দিরাই বিএনপিতে বিরোধ চরমে একপক্ষের বহিষ্কারের সুপারিশ, অপরপক্ষের উন্নয়ন সভার ডাক এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা

শহরে সক্রিয় মাদক কারবারিরা

  • আপলোড সময় : ২৯-০৬-২০২৫ ০৮:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৬-২০২৫ ০৯:২৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শহরে সক্রিয় মাদক কারবারিরা
বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার সুরমা নদী তীরবর্তী ‘বেকারিঘাট’ এলাকায় সন্ধ্যা হলেই বাড়ে বহিরাগত লোকদের আনাগোনা। পাড়ার একটি বাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওই বাসা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করেন মাদকসেবীরা। স্থানীয় এক যুবক প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসলেও ভয়ে মুখ খুলেন না কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি ওই এলাকাটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শহরের ইয়াবাসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এলাকার উঠতি বয়সী যুবকরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের এই রমরমা ব্যবসা বন্ধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
উকিলপাড়ার ‘বেকারিঘাট’ এলাকার মতো শহরের অন্তত ১০ থেকে ১২টি স্থানে অবৈধ এই মাদক ব্যবসার স্থান চিহ্নিত করেছেন এই প্রতিবেদক। যেখানে প্রকাশ্য গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক চক্র।

অনুসন্ধানে বলছে, পৌর শহরের তেঘরিয়া, বড়পাড়া, আরপিননগর, উকিলপাড়া, সুলতানপুর, আফতাব নগর, হাছননগর, বনানীপাড়া, বলাকা, ধোপাখালি, নবীনগর, ষোলঘর, ওয়েজখালি, পিরোজপুর এলাকায় রয়েছে মাদক কারবারের এক বা একাধিক স্পট। যেখান থেকে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এসব এলাকার মাদক ব্যবসা পরিচালনার সাথে যুক্ত রয়েছেন এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িতরা। মাদকের নির্দিষ্ট স্পট ছাড়াও মাদক কারবারি চক্রের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ পর্যায়েও মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে সূত্র।
শহরের তেঘরিয়া এলাকায় সরেজমিনে সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধান চালালে জানাযায়, সরকারি পুকুর এলাকায় রয়েছে অন্তত তিনটি মাদক কারবারির আস্তানা। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রকাশ্যে এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে একাধিক চিহ্নিত ব্যক্তি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, সরকারি পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ৩ যুবকসহ একাধিক ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন। এলাকার কোন কোন ঘরে মাদক বিক্রি হয় তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন যে কেউ।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম শ্যামল বলেন, এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এই এলাকার কোন ঘরে মাদক বিক্রি হয় তা সবাই জানে। এলাকায় সচেতন মানুষরা মাদকসেবীদের কারণে অতিষ্ঠ। মাদকের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। না হলে এলাকার যুব সমাজ বিপথগামী হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরপিননগর এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকায় ইয়াবার বড় ডিলার পংকজ। সে আরপিননগর ও বড়পাড়া থেকে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতো। সে এখন জেলে থাকার পর তার ব্যবসা তার অনুসারী ও সাপ্লায়াররা করছে। শিবলু নামের এক সাপ্লায়ার রয়েছে যে ভ্রাম্যমাণভাবে মাদক ব্যবসা করে আসছে। রাত হলেই পাড়ায় মাদকসেবীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। রাত গভীর হলে রাস্তায় চলাচল অনিরাপদ হয়ে যায়। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। মাদক কারবারিদের বিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে যাবে।
এদিকে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস জানিয়েছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে দপ্তরটি। চলতি মাসে মাদকসেবী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে ২৮টি নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য জব্দ ও জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাহিদ হাসান সৌরভ।
মাদক বিক্রয়ের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে অভিযান পরিচালনার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ

উদ্বোধনেই থমকে আছে সদর হাসপাতালের আইসিইউ